• A
  • A
  • A
"তুমি হিরো, আমি গর্বিত"; জেলাশাসককে আবেগঘন বার্তা স্ত্রীর

আলিপুরদুয়ার, ৭ জানুয়ারি : সোশাল মিডিয়ায় স্ত্রীর উদ্দেশ্যে এক যুবক আপত্তিকর মন্তব্য করেছিল। এই অভিযোগে গতকাল ফালাকাটা থানায় ডেকে তাকে বেধড়ক মারধর করেন আলিপুরদুয়ার জেলাশাসক নিখিল নির্মল। সঙ্গে ছিলেন তাঁর স্ত্রী নন্দিনী কৃষ্ণণ ও তাঁর বান্ধবী সায়নী সরকার। গোটা ঘটনার ভিডিয়ো ভাইরাল হওয়ার পরই বিতর্ক শুরু হয়। একজন জেলাশাসক হয়ে কী ভাবে আইন হাতে তুলে নিলেন নিখিল নির্মল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। যদিও স্বামীর এই কাজকে কোনওভাবেই ছোটো করে দেখছেন না স্ত্রী নন্দিনী। বরং স্বামীর এই কাজের জন্য তিনি গর্বিত বলে জানিয়েছেন। ফেসবুক পোস্টে স্বামী নিখিল নির্মলের উদ্দেশ্যে তিনি লিখেছেন, "আই লাভ ইউ নিখিল, আই প্রাউড অফ ইউ। তোমার স্ত্রী হিসেবে আমি ভাগ্যবতী।"

নিখিল নির্মল ও নন্দিনী কৃষ্ণণ, ছবি সৌজন্য : ফেসবুক


ফেসবুকে নন্দিনী লিখেছেন, "অনেক কথা হয়ে গেছে। যদি সরানোর হয় তো সরিয়ে দাও। কিন্তু কারোর স্ত্রী ও বাচ্চাদের নিয়ে কোনও মানুষকে বিরক্ত কোরো না। ভিডিয়োতে কী দেখানো হচ্ছে তা তোমরা কি কেউ জানো ? যা দেখানো হচ্ছে তা জেনেশুনেই দেখানো হচ্ছে। কিন্তু, যা হয়েছে তা কেউ দেখায়নি। হ্যাঁ, শালাকে থাপ্পড়, লাথি মেরেছি। অন্য কেউ হলে মেরেই দিত এই ধরনের লোককে। বিয়েতে সাত পাক ঘোরার সময় আমার স্বামী আমার দেখাশোনা, আমাকে রক্ষা, আমার হয়ে দাঁড়াবার কথা বলেছিল। আমি তার জন্য গর্বিত। সে সত্যিকারের হিরো। কেউ আপনার স্ত্রী কে যদি বলে যে তোমার......(অশ্লীল মন্তব্য)। তাহলে এটা ঠিক হবে তাই তো? নিখিলের বিষয়ে আপনাদের আচরণ ঠিক এরকম, আরে ও (অভিযুক্ত যুবক) তো ধর্ষণ করেনি। শুধু তো কমেন্ট করেছে ভাই। থাপ্পড় মারা ঠিক হয়নি। ওই ধরনের লোক উচ্ছন্নে যাক যারা নিজেদের প্রতিশ্রুতি ভুলে যায়।"
আগের খবর :স্ত্রীকে অশালীন মন্তব্যের অভিযোগ, যুবককে থানায় মারধর জেলাশাসকের
ভিডিয়োতে দেখা গেছে নিখিল নির্মলের স্ত্রী নন্দিনীর বান্ধবী ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের কর্মী সায়নী সরকারও মারধরের সময় ছিলেন। অভিযুক্ত যুবককে প্রশ্ন করতেও দেখা গেছে। তিনিও ফেসবুক পোস্ট করেছেন। তাতে লিখেছেন, "যারা মহিলাদের সম্মান দিতে জানে না তারা DM স্যারের বিরুদ্ধে গেছে। আমাদের মতো সাধারণ মেয়েদের যাতে ছেলেদের খারাপ মন্তব্যের শিকার হতে না হয় তার জন্য স্যারের পাশে থাকতে হবে। আমি সবার কাছে এই অনুরোধ করছি।"


অন্যদিকে মারধরের খবর কেন হল ? ভিডিয়ো কী ভাবে ভাইরাল হল? অভিযোগ, এই প্রশ্ন তুলে ফালাকাটার সাংবাদিকদের চাপ দিচ্ছে পুলিশ-প্রশাসন। সাংবাদিকের বাড়িতে পুলিশ পাঠিয়ে খোঁজ খবরও নেওয়া হচ্ছে। জানতে চাওয়া হচ্ছে কে ভাইরাল করল মারধরের ভিডিয়ো। আর সেই কারণে আতঙ্কে রয়েছেন সাংবাদিকরা। পেশার তাগিদে সাংবাদিকরা খবর সংগ্রহ করেছেন, ভিডিয়ো সংগ্রহ করেছেন। তাই সাংবাদিকদের উপরে চাপ দেওয়াটা অন্যায় বলে মনে করছেন অনেকেই। গোটা ঘটনা নিয়ে আলিপুরদুয়ারের সমাজকর্মী রাতুল বিশ্বাস বলেন, "একজন জেলাশাসক হয়ে আইন হাতে তুলে নেওয়া ঠিক হয়নি। থানায় ঢুকে মারধরের ঘটনা নিন্দনীয়।"



CLOSE COMMENT

ADD COMMENT

To read stories offline: Download Eenaduindia app.

SECTIONS:

  হোম

  রাজ্য

  দেশ

  বিদেশ

  ক্রাইম

  খেলা

  বিনোদন-E

  ইন্দ্রধনু

  অনন্যা

  গ্যালারি

  ভ্রমণ

  ଓଡିଆ ନ୍ୟୁଜ

  আয়না ২০১৮

  MAJOR CITIES