• A
  • A
  • A
জেলাশাসক ও তাঁর স্ত্রীর শাস্তি চেয়ে মামলা করার হুঁশিয়ারি বিনোদের

আলিপুরদুয়ার, ১০ জানুয়ারি : "যদি আমার দোষ থাকে তবে আমার শাস্তি হোক। আর যদি ওদের দোষ থাকে তাহলে ওদের শাস্তি হোক" - কার্যত এই ভাষাতেই নিখিল নির্মল ও তাঁর স্ত্রী নন্দিনী কৃষ্ণানের শাস্তির দাবি করলেন বিনোদ সরকার। জেলাশাসক ও তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করবেন বলেও জানান তিনি।

Loading the player...
ভিডিয়োয় শুনুন বিনোদের বক্তব্য


৬ জানুয়ারি স্ত্রীকে কটূক্তির জেরে ফালাকাটা থানায় বিনোদ সরকারকে মারধর করেন আলিপুরদুয়ারের জেলাশাসক নিখিল নির্মল। উপস্থিত ছিলেন তাঁর স্ত্রী নন্দিনী কৃষ্ণানও। গতকাল জামিনে বাড়ি ফিরেই জেলাশাসক ও তাঁর স্ত্রীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করলেন বিনোদ। জেলাশাসকের বিরুদ্ধে মামলা করার হুঁশিয়ারিও দিলেন। তাঁর কথায়, "কটূক্তি করার জন্য যদি পুলিশ আমাকে গ্রেপ্তার করতে পারে, তাহলে নন্দিনী কৃষ্ণান সহ যারা আমাকে গ্রুপে অ্যাড করে গালিগালাজ করল তাদেরও গ্রেপ্তার করা উচিত। আমাকে তারা নানাভাবে উত্তেজিত করেছে। আমার মাকে নানান কথা বলা হয়েছিল। আমি বাধ্য হয়েই গালি দিয়েছি।" তাঁর অভিযোগ, "আজ পুলিশ আমাকে গ্রেপ্তার করল। কিন্তু জেলাশাসক বা তাঁর স্ত্রীর কিছু হল না। এটা কেন হবে?"
মঙ্গলবার ফালাকাটা হাসপাতাল থেকে পুলিশ বিনোদকে নিয়ে আসেন ফালাকাটার এক মানবাধিকার কর্মী সুকুমার ঘোষের বাড়িতে। বিনোদকে বলা হয়, তাঁর পরিবারের লোকজন সেখানে তাঁর জন্য অপেক্ষা করছেন। কিন্তু, সুকুমারবাবুর বাড়িতে এসে বিনোদ দেখেন, সেখানে তাঁর পরিবারের কেউ উপস্থিত নেই। পাশাপাশি সেখানে বিনোদের সঙ্গে আলাদাভাবে দেখা করেন ফালাকাটা থানার IC সৌম্যজিৎ রায়। কিন্তু, কেন বিনোদকে সুকুমারবাবুর বাড়িতে আনা হল ? আর কেনই বা তাঁর সঙ্গে IC দেখা করতে এলেন ? তা নিয়েই উঠছে প্রশ্ন।


মানবাধিকার সংগঠন APDR-র সেন্ট্রাল কমিটির সদস্য সুমন গোস্বামী অবশ্য এই বিষয়টিকে দুর্ভাগ্যজনক বলে আখ্যা দিচ্ছেন। তিনি বলেন, "মানুষের জন্য কাজ করা খুব কঠিন। কিছু মানবাধিকার কর্মী এই ব্যানারটিকে ব্যবহার করে প্রচারের আলোয় থাকতে চাইছেন। ফায়দা লুটতে চাইছেন। কে কাকে মানবাধিকার কর্মী বলবে, সেটা তার ব্যাপার। এই লড়াইটা ক্ষমতা বনাম প্রান্তিক মানুষের লড়াই। সেই জায়গায় একজন মানবাধিকার কর্মী যদি মানুষের পক্ষে না দাঁড়িয়ে ক্ষমতার পক্ষে কথা বলেন, তবে তাঁর উদ্দেশ্য ও কার্যপদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এক্ষেত্রে একজন সৎ মানবাধিকার কর্মী জেলাশাসকের পক্ষে কথা বলবেন না। যদি বলেন, তাহলে অন্তত তিনি সৎ মানবাধিকার কর্মী নন।"

প্রথমে বাড়ি থেকে থানা ও থানায় আসার মারধর। সেখান থেকে কোর্ট। এরপর শারীরিক অসুস্থতার জন্য হাসপাতালে ভরতি হওয়া, হাসপাতাল থেকে উধাও হয়ে থানা থেকে ফের বাড়ি। বিনোদের এই আড়াই দিন কেটেছে চরম অনিশ্চয়তায়। সব জল্পনা শেষে গতরাতে বিনোদ ঘরে ফিরলেও, তাঁর নিরাপত্তা নিয়ে সংশয়ে রয়েছে তাঁর পরিবার। তাই আইন মোতাবেক দোষীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছে তারা। একইভাবে দোষীদের উপযুক্ত শাস্তির দাবি করেছেন বিনোদের প্রতিবেশীরাও।

CLOSE COMMENT

ADD COMMENT

To read stories offline: Download Eenaduindia app.

SECTIONS:

  হোম

  রাজ্য

  দেশ

  বিদেশ

  ক্রাইম

  খেলা

  বিনোদন-E

  ইন্দ্রধনু

  অনন্যা

  গ্যালারি

  ভ্রমণ

  ଓଡିଆ ନ୍ୟୁଜ

  আয়না ২০১৮

  MAJOR CITIES