• A
  • A
  • A
দুর্নীতির অভিযোগ তুলছেন সদর মহকুমাশাসক, অস্বীকার তৃণমূল কাউন্সিলরদের

বালুরঘাট, ৩১ ডিসেম্বর : সামনে আসতে শুরু করেছে বালুরঘাট পৌরসভার একের পর এক দুর্নীতি। সেই দুর্নীতি নজরে আনছেন খোদ পৌর প্রশাসক। যার ফলে কার্যত নিজেদের পিঠ বাঁচাতে গতকাল এক সাংবাদিক বৈঠকের ডাক দেন বালুরঘাট পৌরসভার বিদায়ি দুই তৃণমূল কাউন্সিলর শংকর দত্ত ও দেবজিৎ রুদ্র। বৈঠকে তাঁরা প্রমাণ করার চেষ্টা করেন, যেসব দুর্নীতির অভিযোগ উঠছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, BOC-র মিটিং ও সরকারি নিয়ম মেনে পৌর প্রশাসক সাফ জানিয়েছেন, সব কিছু খতিয়ে দেখে চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের বেতন বন্ধ করা হয়েছে। ওঁদের যা বলার এক্তিয়ার রয়েছে সেটা বলেছেন। তবে কোনও বেনিয়মই বরদাস্ত করবেন না বলেও সাফ জানিয়ে দেন পৌর প্রশাসক তথা সদর মহকুমাশাসক ঈশা মুখার্জি।

Loading the player...
বালুরঘাট পৌরসভার বিদায়ি দুই তৃণমূল কাউন্সিলর


অক্টোবরে তৃণমূল পরিচালিত বালুরঘাট পৌরসভার মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে। এরপর পৌরসভায় বসেন সদর মহকুমাশাসক। তিনি বসতেই বিদায়ি বোর্ডের একের পর এক দুর্নীতি সামনে আসতে থাকে। চাপে পড়ে যায় তৃণমূল পরিচালিত বিদায়ি পৌরবোর্ড। অবৈধ নিয়োগ থেকে অবৈধভাবে কর্মীদের বেতন দেওয়া, সবই এক এক করে বন্ধ করে দেওয়া হয়। শেষমেশ নিজেদের পিঠ বাঁচাতে গতকাল বালুরঘাট পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কার্যালয়ে এক সাংবাদিক বৈঠকের ডাক দেওয়া হয়। সেখানে তৃণমূলের সব কাউন্সিলরদের থাকার কথা থাকলেও শেষমেশ দেখা যায় শুধু শংকর দত্ত ও বাপি রুদ্রকে। কেন আসেননি বাকিরা তা জিজ্ঞাসা করার আগেই বলা হয়, কেউ পিকনিকের জন্য আবার কেউ কাজে বাইরে রয়েছেন। তাই তাঁরা দু'জনেই বৈঠক করছেন। বৈঠকে তথ্য প্রমাণ দিয়ে তাঁরা বোঝানোর চেষ্টা করেন পৌরসভায় কোনও দুর্নীতি হয়নি। অবৈধ কোনও নিয়োগই হয়নি। সবকিছু BOC মিটিং ও সরকারি নিয়ম মেনেই হয়েছে। তাঁরা জানান, কেন পৌর প্রশাসক এরকম করছেন তা তাঁদের জানা নেই। এই নিয়ে তাঁরা পৌর কর্মচারী সমিতির পক্ষ থেকে পৌরপ্রশাসক তথা সদর মহকুমাশাসককে লিখিত ভাবে ডেপুটেশনও দিয়েছেন বলে জানান।


এই বিষয়ে বিদায়ি তৃণমূল কাউন্সিলর দেবজিৎ রুদ্র জানান, সরকারি নিয়ম মেনেই SSK(শিশু শিক্ষা কেন্দ্র)-র সুপারভাইজ়ার নিয়োগ হয়েছে। সুদের টাকায় কোনও কর্মীকে বেতন দেওয়া হয়নি। বিরোধীরা বা যারা বলছে এটা অবৈধ তারা সম্পূর্ণ মিথ্যা বলছে। কেন প্রশাসকের পক্ষ থেকে ওই কর্মীদের বেতন বন্ধ করা হয়েছে তাও জানা নেই। হয়তো সঠিক তথ্য না দেওয়ায় এমন বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে। এনিয়ে সঠিক নথি তাঁরা পেশ করেছেন। পাশাপাশি তিনি প্রশ্ন করেন, "যেখানে পৌরসভা সান্মানিক দুই হাজার টাকা ভাতা দিতে পারছে না, সেখানে প্রত্যেকদিন ওই শ্রমিকদের পুনর্নিয়োগ করে প্রতিদিন ১৫৫ টাকা কী করে দেবে পৌরসভা?" তিনি আরও বলেন, "বালুরঘাট পৌরসভায় পৌরপ্রশাসক বসায় সবরকম উন্নয়ন থমকে গেছে। সমব্যাথির টাকা থেকে বার্ধক্যভাতা ও বিধবাভাতাও বন্ধ হয়ে গেছে। টাকা পেতেও বেগ পেতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। আরেক বিদায়ি কাউন্সিলর শংকর দত্ত বাম আমলের বিভিন্ন দুর্নীতির প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। সনোস্ক্যান থেকে পিয়ারলেস ভবন সবকিছুই অবৈধভাবে দেওয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

অন্যদিকে, পৌর প্রশাসক তথা সদর মহকুমাশাসক ঈশা মুখার্জি জানান, সব কিছু খতিয়ে দেখেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের সুদের টাকায় কর্মীদের বেতন দেওয়া হচ্ছিল। সেখানে চেয়ারম্যানের সই রয়েছে। যা আইনত করা যায় না। যেসব কর্মীদের চাকরি গেছিল তাদের মিশন নির্মল বাংলা প্রকল্পের কাজে নিযুক্তির জন্য অফার লেটার দেওয়া হয়েছিল। তবে সেই লেটার এখনও কেউ গ্রহণ করেনি। যে পোস্ট নেই তারা সেই পোস্টেই কাজ করতে চাইছে। এটা তো হতে পারে না।

CLOSE COMMENT

ADD COMMENT

To read stories offline: Download Eenaduindia app.

SECTIONS:

  হোম

  রাজ্য

  দেশ

  বিদেশ

  ক্রাইম

  খেলা

  বিনোদন-E

  ইন্দ্রধনু

  অনন্যা

  গ্যালারি

  ভ্রমণ

  ଓଡିଆ ନ୍ୟୁଜ

  আয়না ২০১৮

  MAJOR CITIES