• A
  • A
  • A
৬ বছরের শিশুর জন্ম ১৯১২-তে!

ধুপগুড়ি, ২ জানুয়ারি : পৌরসভার গাফিলতির জেরে বিপাকে ছয় বছরের শিশু। নাম রেণু পারভিন। ছয় বছর পেরিয়ে গেলেও সরকারি স্কুলে ভরতি হতে পারেনি সে। বাধ্য হয়ে বেসরকারি একটি স্কুলে পড়াতে হচ্ছে কাকুতি মিনতি করে। রেণুর জন্ম ২০১২ সালের ১৯ ডিসেম্বর। তবে তার জন্মের শংসাপত্রে সেই সালকেই পৌরসভা করে দিয়েছে ১৯১২। স্বভাবতই হিসাব মতো রেণুর বয়স এখন ১০৬ বছর। আর এই ভুলের জেরেই কোনও সরকারি স্কুলে ভরতি হতে পারেনি রেণু। আগামী দিনে মেয়েকে সরকারি স্কুলে ভরতির চেষ্টায় তাই হাসপাতাল এবং পৌরসভার দোরে দোরে ঘুরে বেড়াচ্ছেন বাবা রবিদুল ইসলাম। ধুপগুড়ি খলাইগ্রাম এলাকার বাসিন্দা রবিদুল পেশায় দিনমুজুর। মেয়ের ভবিষ্যৎ চিন্তা করে কাজ ফেলে দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়াতে হচ্ছে তাঁকে।

Loading the player...
ভিডিয়োয় শুনুন রবিদুল ইসলামের বক্তব্য


২০১২ সালের ১৯ ডিসেম্বর রবিউলের স্ত্রী নীলিমা খাতুন ধুপগুড়ি গ্রামীণ হাসপাতালে রেণুর জন্ম দেন। ২০ ডিসেম্বর নীলিমা, জননী সুরক্ষা ভাতা হিসেবে সরকারিভাবে এক হাজার টাকা অনুদান পান। মেয়ের জন্মের পর তার জন্ম শংসাপত্রের জন্য ধুপগুড়ি পৌরসভায় আবেদন জানান রবিদুল। ২০১৪ সালে সেই আবেদনপত্রের ভিত্তিতে জন্ম শংসাপত্র মেলে। পড়াশোনা খুব কম জানায় রবিদুলের পক্ষে সেই জন্ম শংসাপত্র সঠিক ভাবে বুঝে ওঠা সম্ভব হয়নি। পরে মেয়ে বড় হওয়ার পর তাকে প্রাথমিক বিদ্যালয় ভরতি করাতে যান তিনি। তখন কয়েকটি বিদ্যালয় থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয় জন্ম শংসাপত্রে ভুল রয়েছে। সে কারণে ভরতি নেওয়া সম্ভব নয়। এরপর থেকেই রবিদুল, পৌরসভা এবং হাসপাতালে শংসাপত্র সংশোধনের জন্য ঘুরছেন। তবে কাজের কাজ কিছুই হয়নি। হাসপাতালের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে জন্ম শংসাপত্র পৌরসভার তরফে দেওয়া হয়েছে। সেই শংসাপত্রে কোনও সংশোধন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ করতে পারবে না। মা এবং শিশু সুরক্ষা কার্ড হাসপাতাল থেকে দেওয়া হয়েছিল। সেই কার্ডে সঠিক তারিখ লেখা রয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তরফে পৌরসভায় গিয়ে বিষয়টি জানিয়ে শংসাপত্রটি সংশোধন করে নেওয়ার জন্য পরামর্শ দেওয়া হয় রবিদুলকে। কিন্তু আখেরে তাতেও কোনও ফল মেলেনি। আজ ফের হাসপাতালে আসেন তিনি। হাসপাতাল থেকে ঠিক একই ভাবে তাঁকে পৌরসভায় যাওয়ার কথা বলা হয়।
ঘটনায় পৌরসভার দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মীর কর্তব্যের বিষয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। পৌরসভার তরফে দেওয়া জন্ম শংসাপত্র বয়স লেখা রয়েছে ১৯ ডিসেম্বর ১৯১২ সাল। সেই মতো রেণু পারভিনের বয়স ১০৬ বছর। আদতে তার বয়স মাত্র ৬। পৌরসভার এই গাফিলতির জেরে দিনমজুর রবিদুলের পরিবার বিপাকে। তার মেয়ের ভবিষ্যৎ আজ অনিশ্চয়তার মুখে। যদিও এই বিষয়ে পৌরসভার ভাইস চেয়ারম্যান রাজেশ সিংয়ের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, এটা বিগত বোর্ডের আমলে হয়েছে। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

CLOSE COMMENT

ADD COMMENT

To read stories offline: Download Eenaduindia app.

SECTIONS:

  হোম

  রাজ্য

  দেশ

  বিদেশ

  ক্রাইম

  খেলা

  বিনোদন-E

  ইন্দ্রধনু

  অনন্যা

  গ্যালারি

  ভ্রমণ

  ଓଡିଆ ନ୍ୟୁଜ

  আয়না ২০১৮

  MAJOR CITIES