• A
  • A
  • A
প্রশাসনিক কাজ স্বামীকে ভাগ করে দেওয়ার আবেদন পূর্ত কর্মাধ্যক্ষের

মালদা, ১০ জানুয়ারি : পূর্ত কর্মাধ্যক্ষের আবদারে চক্ষু চড়কগাছ BDO-র। ঘটনাটি পুরাতন মালদা পঞ্চায়েত সমিতির। এই সমিতির পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ লক্ষ্মী সরকার নিজের কাজ সামলাতে না পারায় কাজের কিছুটা স্বামীকে ভাগ করে দেবেন বলে চিঠি দেন BDO-কে। এই আবদার মানতে গেলে পরিবর্তন করতে হবে পঞ্চায়েত আইন। কী করবেন, ভেবে না পেয়ে কর্মাধ্যক্ষের এই চিঠি সদর মহকুমাশাসককে পাঠিয়ে দিয়েছেন BDO। সদর মহকুমাশাসক এবিষয়ে এখনও কোনও পদক্ষেপ নেননি।

Loading the player...

পুরাতন মালদা পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ লক্ষ্মী সরকার তৃণমূলের সদস্য। ১২ ডিসেম্বর তিনি পুরাতন মালদার BDO-কে চিঠি দিয়ে জানান, তাঁর ছোটো একটি সন্তান রয়েছে। তিনি বিভিন্ন ধরনের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। পূর্ত কর্মাধ্যক্ষের সাথে তাঁকে পরিবহন দপ্তরের দায়িত্বও সামলাতে হয়। এই কাজের চাপ নেওয়া তাঁর পক্ষে সমস্যার হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই তিনি পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ ও পরিবহন দপ্তরের বিশেষ কিছু কাজের দায়িত্ব তাঁর স্বামী সুদর্শন হালদারকে দিচ্ছেন। প্রশাসন যেন তাঁর স্বামীকে সবরকম সহযোগিতা করে। লক্ষ্মীদেবীর এই চিঠি পেয়ে হতবাক BDO নরোত্তম বিশ্বাস। চিঠির বিষয়টি প্রকাশ্যে আসায় আজ BDO-কে এই নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। তিনি লক্ষ্মীদেবীর চিঠির প্রাপ্তি স্বীকার করে বলেন, "উনি পারিবারিক কারণে পঞ্চায়েত সমিতির কাজের দায়িত্ব তাঁর স্বামীকে দিতে চান। আমি চিঠিটি সদর মহকুমাশাসককে পাঠিয়ে দিয়েছি। এক্ষেত্রে আইনানুগ ব্যবস্থা যা নেওয়ার তা মহকুমাশাসকই নেবেন। তবে পঞ্চায়েত আইনে এমন ব্যবস্থা নেওয়া যায় কি না তা আমার জানা নেই।"


লক্ষ্মীদেবীর স্বামী সুদর্শন হালদার এক্ষেত্রে স্ত্রীর পাশেই দাঁড়িয়েছেন। তিনি জানান, তাঁদের দু’বছরের একটি বাচ্চা রয়েছে। সঙ্গে রয়েছে ব্যবসার চাপ। তাই তাঁর স্ত্রী প্রতিদিন অফিসে যেতে পারেন না। কিন্তু প্রতিদিন অফিস না গেলে, সব ধরনের বিষয় না জানলে জনসাধারণের কাজ করা যায় না। তাই জনসাধারণের স্বার্থেই তাঁর স্ত্রী প্রশাসনের কাছে একটি আবেদন জানিয়েছিলেন। চিঠি দিয়ে তিনি জানতে চেয়েছিলেন, তাঁর অনুপস্থিতিতে তিনি কিছু বিষয়ে পঞ্চায়েত সমিতির কাজের দায়িত্ব নিজের স্বামীকে দিতে পারেন কি না। তাঁর স্ত্রী রাজনীতিতে নতুন। আইনগত বিষয়গুলি তাঁর খুব একটা জানা নেই। তিনিও রাজনীতিতে নতুন। বিষয়টি তাঁরও জানা নেই।

ঘটনা প্রসঙ্গে পুরাতন মালদা পঞ্চায়েত সমিতির বিরোধী দলনেতা BJP-র নিতাই মণ্ডল বলেন, "কর্মাধ্যক্ষ যা করেছেন, তা বেআইনি। লক্ষ্মী সরকারের স্বামী সুদর্শন হালদার দিনের পর দিন পঞ্চায়েত সমিতিতে গিয়ে সরকারি কাজে হস্তক্ষেপ করেন। কখনও কখনও তিনি হুমকিও দেন। লক্ষ্মীদেবী যদি ব্যবসার কাজেই ব্যস্ত থাকেন, তবে তিনি ভোটে দাঁড়ালেন কেন? এই ঘটনাতেই বোঝা যাচ্ছে, পুরাতন মালদা পঞ্চায়েত সমিতির কাজকর্ম কী ভাবে চলছে।" পঞ্চায়েত সমিতির সভানেত্রী মৃণালিনী মাইতি অবশ্য পরিষ্কার জানিয়েছেন, পঞ্চায়েত আইন কিংবা সরকারিভাবে লক্ষ্মীদেবীর আবেদন গ্রহণযোগ্য নয়। লক্ষ্মীদেবী তাঁর কাছেও নিজের আবেদন জানিয়েছেন। তিনিও সেই চিঠি মহকুমাশাসককে পাঠিয়ে দিয়েছেন। আর যাকে নিয়ে এত কথা, সেই লক্ষ্মীদেবী নিজে এব্যাপারে কোনও প্রতিক্রিয়া দিতে চাননি। শুধু বললেন, "যা বলার স্বামী বলবে।"


CLOSE COMMENT

ADD COMMENT

To read stories offline: Download Eenaduindia app.

SECTIONS:

  হোম

  রাজ্য

  দেশ

  বিদেশ

  ক্রাইম

  খেলা

  বিনোদন-E

  ইন্দ্রধনু

  অনন্যা

  গ্যালারি

  ভ্রমণ

  ଓଡିଆ ନ୍ୟୁଜ

  আয়না ২০১৮

  MAJOR CITIES