• A
  • A
  • A
সংরক্ষিত মন্দিরের সামনেই চড়ুইভাতি, বিতর্ক

বাঁকুড়া, ২৭ ডিসেম্বর : পাঁচদিনের ৩১তম বিষ্ণুপুর মেলা নানা জট কাটিয়ে ছন্দে ফিরতে শুরু করেছে। পর্যটকদের ভিড়ও উপছে পড়ছে বিষ্ণুপুরে। এরই মাঝে, ভারতীয় পুরাতত্ত্ব বিভাগের সংরক্ষিত জোড়শ্রেণির মন্দির লাগোয়া ফাঁকা জায়গায় চলছে চড়ুইভাতি। পূর্ব বর্ধমান থেকে ৮০ জন ছাত্রছাত্রীর একটি দল বিষ্ণুপুর বেড়াতে এসে মন্দিরের পাশেই গ্যাস ভরতি সিলিন্ডার নিয়ে রান্নায় মেতেছে। কিন্তু, পুলিশ ও মন্দিরের নিরাপত্তা কর্মী সকলেই নির্বিকার।

Loading the player...
দেখুন ভিডিয়ো


সরকারি নিয়মানুযায়ী সংরক্ষিত মন্দিরের পাশাপাশি আগুন জ্বালা নিষিদ্ধ। কিন্তু, দেখা গেল মন্দিরের রেলিংয়ের পাশেই জ্বলছে আগুন। রান্না বসেছে ৮০ জন পড়ুয়ার। তার পাশেই বিষ্ণুপুর মেলার রামানন্দ মঞ্চ। ভারতীয় পুরাতত্ত্ব বিভাগের কর্মীরা অবশ্য বলেন, এবছর সব কিছুই উলটপুরাণ। অবশ্য এনিয়ে প্রতিবাদ করার মত আধিকারিক নেই পুরাতত্ত্ব বিভাগের বিষ্ণুপুর মণ্ডলের।
বিষ্ণুপুর মণ্ডলের মন্দির সংরক্ষণ আধিকারিক সুনীল কুমার ছুটিতে থাকায় তাঁর প্রতিক্রিয়া না পাওয়া গেলেও কলকাতা মণ্ডলের সঙ্গে যোগাযোগ করার পর সমাধানের আশ্বাস মেলে। এরপর, কলকাতা মণ্ডলের আধিকারিকের ফোন পেয়ে নড়েচড়ে বসে বিষ্ণুপুর মণ্ডলের কর্মীরা। তাঁরা গিয়ে মন্দিরের সামনে থেকে রান্না বন্ধ করে দেন।

মন্দিরের নিরাপত্তা কর্মী কাশীনাথ চক্রবর্তী বলেন, "আমার দায়িত্ব মন্দিরের ভেতরের সব কিছু দেখার। জোড় শ্রেণির তিনটি মন্দির আমি একা দেখি। বাইরে কি হচ্ছে তা আমি কি করে বলব?" অবশ্য, তাঁর জানার ইচ্ছেটাও যে নেই তা দেখেই বোঝা গেল।


চড়ুইভাতি করতে আসা কয়েকজন বলেন , "আমরা মন্দিরের ভেতর থেকেই খাবার জল নিয়েছি। ছাত্রছাত্রী নিয়ে এসেছি বলেই হয়তো ছাড় দিয়েছেন।" প্রশ্ন উঠছে মন্দিরের নিরাপত্তা নিয়ে। বিষ্ণুপুরের স্থানীয় মানুষজনের দাবি ইতিপূর্বে কোনওদিন জোড়শ্রেণি মন্দিরের সামনে পিকনিক করতে সাহস পেত না কেউ। এবছর মেলার হাত ধরেই এসেছে চড়ুইভাতির দল। মন্দিরের সামনে পুরাতত্ত্ব বিভাগের নির্দেশিকা আরও কঠোর হওয়া দরকার। পোড়ামাটির হাটকে কেন্দ্র করে প্রতি শনিবার মন্দিরের সামনে মানুষের ঢল নেমে আসে। আগুন না জ্বালার নির্দেশিকা সেক্ষেত্রে অনেকখানি সুবিধা করবে বলে মনে করছেন প্রবীণ বিষ্ণুপুরবাসীরা।

বিষ্ণুপুরের প্রবীণ পুরাতত্ত্ববিদ ও গবেষক চিত্তরঞ্জন দাশগুপ্ত বলেন, "মন্দির আছে বলেই মানুষ বিষ্ণুপুরে আসে। তাই মন্দির সংরক্ষণের দায়িত্ব শুধু সরকারের নয় আমাদেরও। মনে রাখতে হবে ক্ষণিক আনন্দের জন্য যেন স্থায়ী সুখ সরে না যায়।"


CLOSE COMMENT

ADD COMMENT

To read stories offline: Download Eenaduindia app.

SECTIONS:

  হোম

  রাজ্য

  দেশ

  বিদেশ

  ক্রাইম

  খেলা

  বিনোদন-E

  ইন্দ্রধনু

  অনন্যা

  গ্যালারি

  ভ্রমণ

  ଓଡିଆ ନ୍ୟୁଜ

  আয়না ২০১৮

  MAJOR CITIES