• A
  • A
  • A
মাটি মাফিয়াদের দাপটে নদী গর্ভে তলিয়ে যাচ্ছে গ্রাম

শান্তিপুর, ৮ ডিসেম্বর : অশান্ত শান্তিপুর। বিষ মদ খেয়ে ইতিমধ্যে মৃত্যু হয়েছে ১৩ জনের। সমস্ত রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা ঘুরে এসেছেন শান্তিপুরে চৌধুরিপাড়ায়। পৌঁছে গেছে সরকারি সাহায্যও। কিন্তু তারপরও মানুষের মধ্যে ক্ষোভের আঁচ কমেনি। কেবল বিষ মদ নয়, শান্তিপুরের চৌধুরিপাড়ায় অন্যতম সমস্যা এখন মাটি মাফিয়া ও নদী ভাঙন। এর জেরে ধীরে ধীরে নদীর বুকে হারিয়ে যাচ্ছে চৌধুরিপাড়া।

Loading the player...
শুনুন গ্রামবাসীদের বক্তব্য


বর্ষাকালে বর্ধমান, নদিয়া জেলায় নদী ভাঙন এমনিতেই বড় সমস্যা। সেই সমস্যা আরও বড় হয়ে দেখা দিয়েছে এলাকার মাটি মাফিয়াদের কারণে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, নিয়মের তোয়াক্কা না করে নদীর পাড় থেকে অবৈধভাবে মাটি কেটে নিয়ে চলে যাচ্ছে দুষ্কৃতীরা। নদীর পাড় ভাঙছে দ্রুত।
স্বভাবতই প্রশ্ন উঠছে, যারা মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে তারা কি রাতের অন্ধকারেই কাজ করেন? গ্রামবাসীরা বলছেন, একেবারেই নয়, দিনের আলোতে প্রকাশ্যেই এই কাজ হয়।


কীভাবে দিনের আলোয় এই কাজ চলছে ?

গ্রামবাসীরা বলছেন, এখানে যাদের জমি রয়েছে তাদের চাষ করে খেতে হয়। গরিব বাসিন্দারা পুরো জমি চাষ করে উঠতে পারেন না। তাই পেটের দায়ে মাটি মাফিয়াদের কাছে দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে মাটি কাটার কাজ করেন। মাফিয়ারা অত্যন্ত কম দামে এই মাটি কিনে ইটভাটায় সরবরাহ করে।

শান্তিপুরের চৌধুরিপাড়া নদীর পাড়ে অবস্থিত একটি ছোটো গ্রাম। নদী পেরোলেই ওপারে বর্ধমান। প্রায় তিন হাজার একর জায়গা নিয়ে নদীর মাঝে চরে ছিল একটি গ্রাম। চর থেকে মাটি কেটে নেওয়ার ফলে সেই গ্রাম ভাঙ্গনের কবলে পড়ে। দেখতে দেখতে পুরো গ্রাম তলিয়ে যায় নদীতে।

জনৈক গ্রামবাসী বলেন, "এই জমি ভাঙন নিয়ে দু'বছর আগে এলাকা পরিদর্শন করেছিল প্রশাসনের আধিকারিকরা। কিন্তু তারপর আর প্রশাসনের তরফে ভাঙন রুখতে উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

অন্য এক গ্রামবাসীর মতে, "আমাদের গ্রাম ছিল নদীর মাঝখানে। জমি মাফিয়ারা মাটি কেটে নিয়ে যেত। বন্যার সময় ভাঙনের ফলে সেই গ্রাম নদীতে তলিয়ে যায়। নদীর ওপারে আমাদের জায়গা ছিল। এখন সেখানে নিজেদের জমি ফেরত চাইতে গেলে কিছু লোক মেরে তাড়িয়ে দিয়েছে। সরকারের কাছে বারবার আবেদন করেও কিছু হয়নি।"

স্বভাবতই প্রশ্ন ওঠে এই জমি মাফিয়ারা কারা? আমরা প্রশ্ন করেছিলাম গ্রামের জমিহারা বেশকিছু মানুষকে। সেই নাম তারা মুখে আনতে নারাজ। উত্তরে তারা বললেন, "খোঁজ নিন, ঠিক জেনে যাবেন। উপরমহলে এদের অনেক যোগাযোগ রয়েছে।"

আমরা কথা বলতে গেছিলাম পুলিশের সঙ্গে। যাদের সঙ্গে কথা বলেছি তারা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে দেখিয়ে দিয়েছেন।

শান্তিপুরের বিধায়ক অরিন্দম ভট্টাচার্য বলেন, "কিছু লোক ওপার থেকে খালি নৌকা নিয়ে এসে মাটি কেটে চলে যাচ্ছে। এই অভিযোগ আমাদের কাছে জমা পড়েছে। এলাকাটা এতটাই খারাপ জায়গায়, যে বর্ষাকালে নৌকা করে যেতে হয়। পঞ্চায়েত গঠন হওয়ার পর আমরা এই এলাকাটাকে পঞ্চায়েতের আওতায় এনেছি। জেলা পরিষদের কাছে জানতে হবে কাজ কবে শুরু হবে। কাজ করার জন্য সরকারের থেকে অনুমতি পাওয়া হয়ে গেছে। পুলিশকে বলেছি যথাযথ ব্যবস্থা নিতে।"

আগামী বর্ষায় কী হবে কেউ জানে না। এলাকাবাসী বলছেন, শীতকালের নদীতে জল কম থাকে। নদীর তীর বাঁধানোর এটাই সঠিক সময়। কিন্তু প্রশাসন সেই দিকে কর্ণপাত করে কিনা সেটাই দেখার।


CLOSE COMMENT

ADD COMMENT

To read stories offline: Download Eenaduindia app.

SECTIONS:

  হোম

  রাজ্য

  দেশ

  বিদেশ

  ক্রাইম

  খেলা

  বিনোদন-E

  ইন্দ্রধনু

  অনন্যা

  গ্যালারি

  ভ্রমণ

  ଓଡିଆ ନ୍ୟୁଜ

  আয়না ২০১৮

  MAJOR CITIES