• A
  • A
  • A
কে কোথায় টিকিট পাবে সেটা নিয়ে ভাবব আমি : মমতা

নদিয়া, ৯ জানুয়ারি : "নদিয়া জেলায় দুটো লোকসভা কেন্দ্রের দুটোই আমাদের দখলে চাই। কোনও অজুহাত আমি শুনবো না।" আজ নদিয়া জেলা সফরে এসে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জেলা নেতৃত্বকে এভাবে কড়া বার্তা দিলেন। লোকসভা ভোটের জন্য নদিয়া জেলার দায়িত্ব দেওয়া হল অনুব্রত মণ্ডল এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। পাশাপাশি দায়িত্বে আছেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়ও।

ফাইল ফোটো


আজ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রথমে নদিয়ার রানাঘাটের হবিবপুর ছাতিমতলার মাঠে প্রশাসনিক বৈঠক করেন। এরপর তিনি কৃষ্ণনগরের সার্কিট হাউজ়ে যান। সেখানে বিকেল ৩টে থেকে দলীয় নেতৃত্বর সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে একাধিক বিষয় নিয়ে তিনি যেমন ক্ষোভ প্রকাশ করেন, তেমনি একাধিক বিষয় জেলা নেতৃত্বর নজরে আনেন। প্রতিটি অঞ্চল এবং পৌরসভা এলাকায় কোন কোন ওয়ার্ড এবং কোন কোন গ্রাম সংসদে তৃণমূল কংগ্রেস ভোটে হেরেছে এবং কত ভোটে হেরেছে তারও একটা তালিকা তৈরি করতে বলেন তিনি। এই দায়িত্ব দেন দলের প্রতিটি ব্লকের প্রেসিডেন্টকে।


কৃষ্ণগঞ্জের বিধায়ক সত্যজিৎ বিশ্বাসের উপর ক্ষোভ উগরে দিয়ে মমতা বলেন, "পুরোদমে সম্মান দিতে হবে।" সূত্রের খবর, সত্যজিৎবাবু দীর্ঘদিনের পুরোনো এক তৃণমূল নেতাকে ব্লক সভাপতির পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছেন। যা নিয়ে তীব্র গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব শুরু হয়েছে কৃষ্ণগঞ্জ বিধানসভা এলাকায়। আর এতেই ক্ষুব্ধ হন মুখ্যমন্ত্রী। সত্যজিৎবাবুকে উদ্দেশ্য করে বলেন, "যত তাড়াতাড়ি সম্ভব পুরোনো ওই তৃণমূল নেতাকে ব্লক প্রেসিডেন্ট পদে নিয়ে আসতে হবে।" এর পাশাপাশি নদিয়া জেলার গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব নিয়ে দলের জেলা সভাপতি গৌরীশংকর দত্ত এবং উজ্জ্বল বিশ্বাসকেও কড়া বার্তা দেন। তিনি বলেন, "কোন বিধায়ক কেমন কাজ করছে পুরোটাই আমার নখদর্পণে। মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখুন। মানুষের কাছে যান। আগামীদিনে কে কোথায় টিকিট পাবেন আর কে টিকিট পাবেন না সেটা নিয়েও ভাবব আমি। শুধু বিধায়ক নয়, বুথস্তরের কর্মী এবং অঞ্চল সভাপতিদেরও লোকসভা ভোটের জন্য ময়দানে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে।"

মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশ দেন, বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের যাতে দ্রুত রূপায়ণ হয় তার জন্য নদিয়া জেলা প্রশাসনকে উদ্যোগ নিতে হবে। হবিবপুর ছাতিমতলা ময়দানে প্রশাসনিক বৈঠকে নদিয়ায় এক্সপোর্ট হাব সহ মায়াপুরকে আরবান সিটি তৈরির মতো একাধিক উদ্যোগের কথা ঘোষণা করেন তিনি। হরিণঘাটায় ই-কমার্স কোম্পানিকে জমি দেওয়ার পাশাপাশি অবিলম্বে রিফিউজি কলোনি নিয়ে সার্ভের জন্য জেলা প্রশাসনিক আধিকারিকদের নির্দেশ দেন।

এছাড়াও, ভুয়ো জবকার্ড যাতে না থাকে ও বৈধ কার্ড হোল্ডার যাতে তাঁর প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত না হন তা নিয়ে BDO-দের সজাগ থাকতে নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। জব কার্ড প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "প্রকৃত গরীবরাই যাতে জবকার্ডের সুবিধা পায় তা দেখতে হবে। যাতে কোনও ফড়ে ঢুকতে না পারে।" এর পাশাপাশি মুরগি পালন ও ডিম উৎপাদনে নতুন সুযোগ সুবিধা দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

অন্যদিকে, দীর্ঘদিন জমি জটে আটকে থাকা বারাসত থেকে কৃষ্ণনগর পর্যন্ত বেহাল ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়ক নিয়ে ক্ষোভও প্রকাশ করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, "আমরা দুঃখিত, এটা কেন্দ্রীয় সরকারের রাস্তা।" এক কিলোমিটার অন্তর বারাসত থেকে কৃষ্ণনগর পর্যন্ত ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়কে ফ্লেক্স লাগানোর জন্য শঙ্কর সিংহকে নির্দেশ দেন তিনি।


CLOSE COMMENT

ADD COMMENT

To read stories offline: Download Eenaduindia app.

SECTIONS:

  হোম

  রাজ্য

  দেশ

  বিদেশ

  ক্রাইম

  খেলা

  বিনোদন-E

  ইন্দ্রধনু

  অনন্যা

  গ্যালারি

  ভ্রমণ

  ଓଡିଆ ନ୍ୟୁଜ

  আয়না ২০১৮

  MAJOR CITIES