• A
  • A
  • A
আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পে টাকা দেবে না রাজ্য : মমতা

নদিয়া, ১০ জানুয়ারি : "আমরা আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পে টাকা দেব না। ভারত সরকারের প্রতীকের পরিবর্তে পদ্মফুলের ছবিসহ প্রধানমন্ত্রীর মুখ যদি লেটারহেডে থাকে তবে কেন আমরা আয়ুষ্মান ভারতে অংশীদার হতে যাব?" আজ নদিয়ায় রানাঘাটের প্রশাসনিক সভায় একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি আরও বলেন, "এই প্রকল্পের জন্য রাজ্য সরকার ৪০ শতংশ টাকা দেবে না। কেন্দ্রীয় সরকার যদি প্রকল্পটি চালাতে চায় তবে তাদের পুরো টাকা দিতে হবে।" কেন্দ্রীয় সরকার দেশবাসীর সঙ্গে প্রতারণা করছে বলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন।

Loading the player...
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য


গত বছরের ২৩ সেপ্টেম্বর রাঁচিতে 'প্রধানমন্ত্রী জন ওষধি যোজনা' (PMJAY) -র সূচনা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের অধীনে প্রধানমন্ত্রী জন ওষধি যোজনায় দেশের নাগরিকরা যথাযথ স্বাস্থ্য পরিষেবা পাবেন। আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের ১০ কোটি ৭৪ লাখ পরিবার চিকিত্‍সা সংক্রান্ত সুযোগ সুবিধা পাবেন। এই প্রকল্পের মাধ্যমে বছরে বিনামূল্যে ৫ লাখ টাকার স্বাস্থ্যবিমা পাবে গরিব পরিবারগুলি। কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়েছে, আয়ুষ্মান ভারত বিশ্বের সবচেয়ে বড় স্বাস্থ্য প্রকল্প। দেশের ৫০ কোটি নাগরিক এই স্বাস্থ্যবিমার সুবিধা পাবেন। যাঁরা এই প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন, তাঁদের কাছে ইতিমধ্যেই এই প্রকল্পের চিঠি এসে পৌঁছেছে। এই প্রকল্পের ৬০ শতাংশ দায়ভার বহন করবে কেন্দ্রীয় সরকার। বাকি ৪০ শতাংশ আর্থিক দায় নিতে হবে রাজ্যকে।
আজ নদিয়ায় রানাঘাটের ছাতিমতলায় প্রশাসনিক সভা করেন মুখ্যমন্ত্রী। সভা থেকে নানা সরকারি প্রকল্পের সূচনা ও শিলান্যাস করেন। রানাঘাটের ছাতিমতলা ময়দানে এই চিঠি পাঠানোর সমালোচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, "কেন্দ্রীয় সরকার বলছে স্বাস্থ্যবিমা করবে, অথচ টাকা নেই। আমাকেও তো ৪০ শতাংশ টাকা দিতে হবে। তোমার একার টাকা নয়। ওতে রাজ্যেরও টাকা আছে। এই প্রকল্পে অংশীদার হওয়ার সিদ্ধান্ত আমি প্রত্যাহার করার কথা ঘোষণা করছি। তুমি একা টাকা দেবে। আমাদের থেকে টাকা কাটতে দেব না। তুমি চিঠি লিখে বলবে, তুমি করছ, তবে আমি কেন টাকা দেব? ওদের কোনও এক্তিয়ার নেই। ওরা প্রতারণা করছে। আজকে আমি দেখলাম প্রধানমন্ত্রীর নাম দিয়ে আর উপরে লোগে দিয়ে চিঠি পাঠানো হচ্ছে। ওটা লোগো নয় পদ্মফুল হবে। আমাদের ঠাকুরের পদ্ম নয়। ওটা ওদের ধান্দাবাজি, দুর্নীতি।"


মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য থেকে শুরু করে একাধিক প্রকল্পের খরচ চালায় রাজ্য সরকার। কিন্তু, নরেন্দ্র মোদি সরকার সেগুলি তাদের নামে চালানোর চেষ্টা করছে। কেন্দ্রীয় সরকারকে আক্রমণ করে মমতা বলেন, "রাজ্যের থেকে টাকা কেটে তারই একটা অংশ আমাদের দাও। এটা দয়া করে দাও না। তোমরা মাছের তেলে মাছ ভাজো। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পঞ্চায়েতের কাজ, কৃষিকাজ সব রাজ্য করবে আর তুমি নরেন্দ্র মোদি দালালি করবে? পোস্ট অফিসে চাকরি নেই। নিরাপত্তাও নেই। নরেন্দ্র মোদির ছবি দেওয়া কার্ড বাড়ি বাড়ি পোস্ট অফিসের কর্মীরা দিয়ে আসছে। এটা এদের কাজ? কেন্দ্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলির বারোটা বাজিয়ে দেবে। আগে এসব হয়নি। ওরা বলেছিল বাইরে থেকে কালোটাকা নিয়ে এসে প্রত্যেকের অ্যাকাউন্টে ১৫ লাখ করে দেবে। এক টাকাও কেউ পাননি।" তাঁর দাবি, "দেশে ২ কোটি মানুষ বেকার হয়ে গেছে। বাংলায় একমাত্র জায়গা যেখানে আমরা ৪০ শতাংশ বেকার কমিয়েছি। আমরা জানি কী করে কাজ করতে হয়।"

সরাসরি নরেন্দ্র মোদিকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, "তিনি (প্রধানমন্ত্রী) ভাষণ দেন, কিন্তু ইংরেজিতে কথা বলতে পারেন না। তিনি টেলিপ্রম্পটার ব্যবহার করেন। মিডিয়া জানে। আমরাও জানি। আপনি কেবল পর্দা দেখেন, পড়েন এবং কথা বলেন ...। আমরা টেলিপ্রম্পটার ব্যবহার করি না।"

জনসভা থেকে বামেদের বিরুদ্ধেও একরাশ ক্ষোভ উগরে দেন মুখ্যমন্ত্রী। বামেদের ডাকা ধর্মঘটের সমালোচনা করে তিনি বলেন, "৩৪ বছরে রাজ্যের সর্বনাশ করে এখন ধর্মঘট করে প্রতিবাদ জানাচ্ছ। স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের গাড়িতে বোম মারছ। আমরা আগামী দিনে আরও কড়া নজর রাখব।" আসন্ন লোকসভা নির্বাচনের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "ভারতবর্ষকে একমাত্র পথ দেখাতে পারে বাংলা। পশ্চিমবঙ্গই পারে ভারতবর্ষকে এগিয়ে নিয়ে যেতে।"



CLOSE COMMENT

ADD COMMENT

To read stories offline: Download Eenaduindia app.

SECTIONS:

  হোম

  রাজ্য

  দেশ

  বিদেশ

  ক্রাইম

  খেলা

  বিনোদন-E

  ইন্দ্রধনু

  অনন্যা

  গ্যালারি

  ভ্রমণ

  ଓଡିଆ ନ୍ୟୁଜ

  আয়না ২০১৮

  MAJOR CITIES