• A
  • A
  • A
দেখবেন আপনার কালীঘাটের বাড়ি আমরা ঘেরাও করেছি: দিলীপ ঘোষ

পুরুলিয়া, ২৩ ডিসেম্বর : আজ কাশীপুরের কলেজ ময়দানে ছিল BJP-র দলীয় সভা। উপস্থিত ছিলেন দলের রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ ও মুকুল রায়।

Loading the player...

২০ ডিসেম্বর রঘুনাথপুরের মৌতোড়ে তৃণমূল যুব কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যে বক্তব্য রেখেছিলেন, আজ সেই প্রসঙ্গ টেনে দিলীপবাবু বলেন, "এখানকার TMC-র দাদারা বেশি দাদাগিরি করবেন না। সামনে পরিবর্তন আসছে। আমি শুনলাম কলকাতা থেকে যুবরাজ (অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়) এসেছিলেন। তিনি এখানেই থাকছেন বেশিরভাগ সময়। বাড়ি যেতে মন হয় না। এখানে আমাদের পঞ্চায়েত সদস্যকে ভাঙাচ্ছেন, সমিতি ভাঙাচ্ছেন, জেলা পরিষদ ভাঙাচ্ছেন। BJP জিতে গেছে এটা হজম করতে পারছেন না। তাই পুলিশ দিয়ে, গুন্ডা দিয়ে, টাকা দিয়ে ভাগাবার চেষ্টা করছেন। এত চেষ্টা করেও দু-চারজনের বেশি পারেননি। উল্টে নির্দল, CPI(M), TMC, কংগ্রেস, ফরওয়ার্ড ব্লকের লোকেরা এসে আমাদের সঙ্গে বোর্ড তৈরি করেছে। যত জায়গায় আমরা জিতেছি, তার চেয়ে বেশি জায়গায় আমাদের বোর্ড তৈরি হয়েছে। কারণ আমাদের সঙ্গে লোকে থাকতে চাইছে। এইটা সহ্য করতে না পেরে ধমকি দিচ্ছেন যে বিদ্যাসাগর দা'র বাড়ি ঘেরাও করবেন। আসুন, দেখা যাক, জঙ্গলমহলে কার কত দম আছে। আপনি এখানে যখন আসবেন, গিয়ে দেখবেন আপনার কালীঘাটের বাড়ি আমরা ঘেরাও করে নিয়েছি। জঙ্গলমহলের মানুষকে ধমকি দেবেন না। জঙ্গলমহলে মাটি কাটার টাকা খাচ্ছেন, ১০০ দিনের টাকা খাচ্ছেন, স্বচ্ছ ভারতের পায়খানার টাকা খাচ্ছেন, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার বাড়ির টাকা খাচ্ছেন, রাস্তা-পুকুরের টাকা খাচ্ছেন। আর ক'টা দিন খেয়ে নিন। কিন্তু যদি চোখ দেখাবেন মনে করেন, লাল চোখকে ভয় পাই না। লাল মাটির মানুষ লাল চোখ অনেক দেখেছি। একমুঠো পান্তা খেয়ে থাকতে পারি, একমুঠো মুড়ি খেয়ে থাকতে পারি, বাইরের লোক ধমকালে আমরা সহ্য করি না।"
গতরাতে সভাস্থলের খুঁটি খুলে ফেলার অভিযোগ করে BJP। তবু সব কিছুকে উপেক্ষা করেই ওই স্থানেই সভা করল BJP। এই প্রসঙ্গে দিলীপবাবু বলেন, "পারমিশন দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। আমরা কেয়ার করি না তোমাদের পারমিশনের। এটা কারও জমিদারি না কি? আমরা মিটিং করব কি না তোমরা বলে দেবে? আমরা কোথায়, কবে মিটিং করব, কত লোক নিয়ে আসব আমরা ঠিক করব। কাশীপুরে ওটা করে দেখিয়েছি।"


তিনি আরও বলেন, "আমরা লড়াই করেছি বলে ১০ হাজারের বেশি কর্মীকে কেস দেওয়া হয়েছে। ১ হাজারের বেশি কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে সেই সময়। সাড়ে তিন হাজার লোক ঘরছাড়া ছিল। দেড় হাজার বাড়ি ভেঙে দেওয়া হয়েছে। আমাদের এই পুরুলিয়া জেলাতে ১১ জন মানুষ খুন হয়েছে এখনও পর্যন্ত। তার মধ্যে সাতজন আমাদের কর্মী। সারা পশ্চিমবঙ্গে ৩৯ জন BJP কর্মী খুন হয়েছে গত ছয়-সাত মাসে। কিন্তু আমরা পিছিয়ে যাইনি। যত মারা যাচ্ছে আমাদের জেদ তত বাড়ছে। যত জেলে ঢোকাচ্ছে, তত আমাদের মিছিলে লোক বাড়ছে। ঝাড়গ্রামে ৮ জন শবর সম্প্রদায়ের মানুষ মারা গেল না খেতে পেয়ে। দিল্লি সরকার চাল পাঠাচ্ছে এখানে। এক কিলো চাল আমাদের কলকাতায় পৌঁছে দিচ্ছেন মোদিজি ৩০ টাকা খরচা করে। আমরা দু'টাকা দিচ্ছি। আর দিদিমণি এক টাকা দিয়ে বলছেন আমি চাল দিচ্ছি। কেন মিথ্যা কথা বলেন। সেই চাল মেদিনীপুর থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে লালগড়ে কেউ পৌঁছে দেয় না। মানুষ না খেতে পেয়ে মারা যাচ্ছে। জঙ্গলমহলের মানুষ, আদিবাসী মানুষ, শবর সম্প্রদায়ের মানুষদের কি বাঁচার অধিকার নেই? তারা উন্নয়নের স্বাদ পাবেন না? দিদিমণি বলছেন না খেয়ে মরেননি। তাহলে আপনি লোক পাঠিয়ে হাঁড়ি-কড়া দিয়ে রান্না করে বাড়ি বাড়ি খাওয়াচ্ছেন কেন? সাংবাদিকরা লিখেছিল বলে তাদের ধমকাচ্ছেন। মানুষ মরে যাবে, খবরও ছাপা যাবে না?"

মুকুল রায় বলেন, "পুরুলিয়ার সাতটি বিধান সভার পঞ্চায়েত ভোটে BJP যা রেজাল্ট করেছে, সেই পরিসংখ্যানে তৃণমূল সাংসদ মৃগাঙ্ক মাহাত হেরেই আছেন। BJP-র টিকিটে জয়ী সদস্যদের ভয় দেখিয়ে তৃণমূলে টানলেও ভোটাররা আমাদের সাথেই রয়েছে। যার ফল হবে লোকসভায়।"

CLOSE COMMENT

ADD COMMENT

To read stories offline: Download Eenaduindia app.

SECTIONS:

  হোম

  রাজ্য

  দেশ

  বিদেশ

  ক্রাইম

  খেলা

  বিনোদন-E

  ইন্দ্রধনু

  অনন্যা

  গ্যালারি

  ভ্রমণ

  ଓଡିଆ ନ୍ୟୁଜ

  আয়না ২০১৮

  MAJOR CITIES